1. arif6eee@gmail.com : choltipotro : Choltipotro
  2. rashad.vai@gmail.com : cp :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

নিত্যপণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত আমদানিও হচ্ছে

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০
  • ১৭৪ জন সংবাদটি পড়েছেন

রমজান মাস সামনে রেখে দেশে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকায় আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে আরো কয়েক লাখ টন পণ্য। ফলে আসন্ন রমজান কিংবা করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খাদ্য মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। এছাড়া এ মুহূর্তে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতির কোনো সম্ভাবনাও নেই। এছাড়া স্থানীয় বাজারে মোটা চালের পাইকারি ও খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত আছে। কিছুটা হ্রাস পেয়েছে খোলা আটার পাইকারি ও খুচরা মূল্য।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সরকারের কাছে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চাল ও গমের মজুদ ছিল ১৭ লাখ ৬২ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টন বেশি। এছাড়া ১২ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল ও গম আমদানি হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ ৭৯ হাজার টন। এর মধ্যে গম ৫১ লাখ ৭৪ হাজার টন এবং চাল ৪ হাজার টন। চালের পুরোটাই বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে।

এদিকে রমজান সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। এবার আমদানি ও সরবরাহ বেশি হওয়ায় এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে বেশির ভাগ পণ্যের দামও। পণ্যবাহী জাহাজ চলমান থাকায় আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে আরো কয়েক লাখ টন পণ্য।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টন। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বছরে ছোলার চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। সেই হিসাবে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের গত ১৭ দিনসহ রমজান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে আরো ৫০ হাজার টন ছোলা বাজারে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ডালজাতীয় পণ্যের সরবরাহও স্বাভাবিক আছে পর্যাপ্ত আমদানির কারণে। চলতি অর্থবছরের আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে মসুর আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ টন, যদিও আগের বছরের একই সময়ে মসুর আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৭৭ টন। কাস্টমসের তথ্যমতে, এবার গত বছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৬৪ টন মসুর বেশি আমদানি হয়েছে। এছাড়া অর্থবছরের আট মাসে সাদা মটর আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টন।

রমজান কিংবা করোনা পরিস্থিতিতে ভোজ্যতেল ও চিনির সরবরাহেও ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কেননা চলতি অর্থবছরের আট মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় দেড় লাখ টন পাম অয়েল বেশি আমদানি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য বলছে, গত আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৫২ টন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৮ টন। এছাড়া চলতি অর্থবছরের আট মাসে অপরিশোধিত সয়াবিন (ক্রুড অয়েল) আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩ টন এবং অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে ৬৭ হাজার ৬৯৬ টন।

এক-দেড় মাস চীনা পণ্য আমদানি বন্ধ থাকার পরও গতবারের চেয়ে এবার বেশি এসেছে কাঁচা মসলাপণ্য রসুন। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রসুন আমদানি হয়েছে ৬৪ হাজার ৮১ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয় ৪৫ হাজার ৫০৯ টন।

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, রমজানে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মধ্যে বেশির ভাগই চাহিদার চেয়ে বাড়তি আমদানি হয়েছে। আরো পণ্য বাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে এবার ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। বরং বর্তমানে বাজারের যে নিম্নমুখী ধারা, তা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত বাণিজ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে উপস্থাপনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশে রসুনের আমদানিনির্ভরতা ১৩ থেকে ২০ শতাংশ উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, চীন থেকে বর্তমানে মোট আমদানির ৯৬ শতাংশ রসুন আমদানি হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে রসুনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৯১ লাখ টন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৩ হাজার ১৫৩ টন আমদানি করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে আদার আমদানিনির্ভরতার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আদার আমদানিনির্ভরতা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। মোট আমদানির ৪১ শতাংশ আদা চীন থেকে আমদানি হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে আদার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৪৬০ টন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, করোনাভাইরাসের কারণে আদা ও রসুনের মোট আমদানির পরিমাণ হ্রাস পায়নি। মূলত চীনে নতুন বছরের ছুটি থাকার কারণে চীন থেকে আগেই আমদানিকারকরা আদা ও রসুন বেশি পরিমাণে আমদানি করেছেন। তাছাড়া ভারতে এ দুটি পণ্যের ফলন বেশি হওয়ার কারণে আমদানিকারকরা ভারত থেকে অনেক বেশি পরিমাণে আদা ও রসুন আমদানি করেছেন। ফলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আদা ও রসুনের সরবরাহ সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

করোনার প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে জনমনে আতঙ্ক যাতে না হয়, সেজন্য গণমাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বার্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। মূল্যও স্বাভাবিক রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করার প্রয়োজন নেই।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, আসন্ন রমজানকে ঘিরে ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। বাড়তি সরবরাহের কারণে এরই মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যের দাম নিম্নমুখী। বর্তমানে যে দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা আমদানি মূল্যের চেয়েও কম। আমদানির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় রমজানের আগে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর দাম না বেড়ে আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। (খবর : দৈনিক বণিক বার্তা, ১৮ মার্চ, ২০২০)

অনুগ্রহ করে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© ২০২০ চলতিপত্র - সম্পাদক কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরিক্ষত
Theme Customized By BreakingNews