1. adammalek21@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. rashad.vai@gmail.com : cp :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

ঝাঁজ কমছে পেঁয়াজের, স্বস্তি ফিরছে বাজারে

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০
  • ২০ জন সংবাদটি পড়েছেন

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির শুরুর পর থেকে ঝাঁজ কমা শুরু হয়েছে এই নিত‌্যপণ‌্যটির। রোববার (১৪ মার্চ) হিলি দিয়ে পেঁয়াজের প্রথম চালান আসার খবরে পাইকারি-খুচরা বাজারে কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা দাম কমেছে।  কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পেরে সাধারণত ক্রেতারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

রাজধানীর শ‌্যামবাজারে দেখা গেছে, সোমবার ও মঙ্গলবার প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকায়।  গত সপ্তাহে যার দাম ছিল ৩৩-৩৫ টাকা।  এদিকে, কারওয়ানবাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকায়। গত সপ্তাহে ৪৩-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  আর উভয় বাজারেই  আমদানি (মিয়ানমার-মিসর-তুরস্ক থেকে আমদানি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে আমদানি পেঁয়াজ।

জানতে চাইলে শ‌্যামবাজারের ‘পেঁয়াজ-রসুন আমদানিকারক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক ও  মেসার্স রাজবাড়ি ভান্ডারের মালিক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তাই দামও অনেক কমেছে। এতে ক্রেতারাও স্বস্তিবোধ করছেন। হঠাৎ শোনা যাচ্ছে, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এতে দেশি পেঁয়াজের দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। দুদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজির দাম ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা কমে এসেছে।’

হাজী মো. মাজেদ আরও বলেন, ‘এখন কৃষকপর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা রাখা হচ্ছে। এতে কৃষক কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। দেশি পেঁয়াজের চেয়ে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কম হলে কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এবার তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী বছর পেঁয়াজ কমে যেতে পারে। এরফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।  কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকায় ঠেকতে পারে। ’

রাজধানীর কাওরান বাজারেও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির প্রভাব পড়তে দেখা গেছে।  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবারও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  সোমবার-মঙ্গলবার একই পেঁয়াজ ২ টাকা থেকে ৩ টাকা কমে ৪২-৪৩ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাওরান বাজারের ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো.শাজাহান বলেন, ‘বাজারে এখন আর পেঁয়াজ সরবরাহের কোনও সমস্যা নেই। বাজারে প্রতিদিনই সরবরাহ বাড়ছে। ফলে দামও কমছে। যতদিন এ অবস্থা বিরাজ করবে, ততদিন দাম কিছুটা ওঠানামা করবে।  তবে ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে এলে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।’  তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন ৪০ থেকে ৪২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।’

কাওরান বাজারের বাইরে ফুটপাথে বসে পেঁয়াজ বিক্রি করেন মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশি পেঁয়াজ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজই কিনছেন। আমরা এক পাল্লা (৫ কেজি) ১৮০ টাকায় কিনছি।  অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৩৬ টাকা।  প্রতি কেজিতে ২ টাকা খরচ পড়ে। বিক্রি করছি ৪০ টাকায়। তবে, আকারে ছোট পেঁয়াজের দাম একটু কম। ’

ভারত সরকার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর গত রোববার দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এ সংবাদের পর পরই দেশি পেঁয়াজের দাম কমতে থাকে। 

এর  আগে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার নিজেদের চাহিদা সামাল দিতে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ওই দিনই এ দেশে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকার মতো বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়।

এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। আর তখন থেকেই দেশে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। একসময় দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় পর্যন্ত পর্যন্ত ওঠে।

এদিক, রাউজিংবিডির হিলির (দিনাজপুর) সংবাদদাতা মোসলেম উদ্দিন জানান, দিনাজপুরে হিলি স্থলবন্দরে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ২২ থেকে ২৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে।  দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার পর রোববার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৯টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক এসেছে।  আমদানিকারকরা বলছেন  ১৯  ট্রাকে ৪২৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। 

পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাণিজ‌্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তারা মনিটরিং করছে। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে আমদানি করা পেঁয়াজের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা আছে। এ হার ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ হতে পারে।  তবে বিষয়টি বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রোববার বাণিজ‌্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এনিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। দেশের কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে—আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে রপ্তানি করতে হবে। এ জন্য যা যা করা দরকার, সব করতে হবে।  পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে।’

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আসায় ট্রাকসেল কমে এসেছে জানিয়ে টিসিবি’র মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রাজধানীর ৫০টি স্পটে এবং বিভাগীয় শহরগুলোয় খোলাবাজারে ন্যায্যদামে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।  এখনো সেগুলো চালু আছে।  তবে বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় এখন ক্রেতারা আর আগ্রহ প্রকাশ করছেন না।  ট্রাকসেল বন্ধ করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।  আমরা বাজার মনিটরিং করছি।’ অবস্থার ওপর নির্ভর করে এই  বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অনুগ্রহ করে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© ২০২০ চলতিপত্র - সম্পাদক কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরিক্ষত
Theme Customized By BreakingNews